
একুশে পদকে ভূষিত, উপমহাদেশের প্রখ্যাত ঢোলবাদক ও ‘ঢোলের জাদুকর’ খ্যাত কিংবদন্তি লোকশিল্পী বিনয়বাঁশী জলদাসের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
গত রবিবার (৫ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী ছন্দারিয়া গ্রামে শিল্পীর বাস্তুভিটার ভাস্কর্য চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্পীর স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত লোক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী’র উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত এই গুণী শিল্পীকে স্মরণ করা হয়।
দিনের কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টায় বিনয়বাঁশীর সমাধি ও প্রতিকৃতি ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পীর সুযোগ্য পুত্র আন্তর্জাতিক ঢোলবাদক বাবুল জলদাস। উদ্বোধনী ঢোলবাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।
বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক বিপ্লব জলদাসের সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সহ-সভাপতি রানু মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কানিজ ফাতেমা বলেন, "বিনয়বাঁশী জলদাস শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি সময় ও কালের ঊর্ধ্বে এক অনন্য সত্তা। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারলেই আমাদের আগামী প্রজন্ম সমৃদ্ধ হবে। আমরা যত বেশি সংস্কৃতি চর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে পারব, সমাজ তত বেশি শুদ্ধ ও আলোকিত হবে।"
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন চৌধুরী, সদস্য সাংবাদিক শাহ আলম বাবলু, সাংবাদিক ও শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি এবং সমাজসেবক ইখতিয়ার উদ্দিন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সজীব চৌধুরী এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল বড়ুয়া ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন বিধান দাস, কালিপদ দাস, দোলন জলদাস, অর্পিতা ঘোষ, জয়িতা ঘোষ, জাহাঙ্গীর ভান্ডারী, মো. ফারুক, প্রীতি দাস, নন্দিনী দাস, মোহিনী দাস ও দেবপ্রিয়া দাস। নৃত্য পরিবেশন করেন ঐশী চৌধুরীসহ স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ।
স্মরণসভায় বক্তারা বিনয়বাঁশী জলদাসকে ‘ক্ষণজন্মা পুরুষ’ ও ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, লোকজ সংস্কৃতির এই মহান কারিগরকে সঠিক মূল্যায়ন ও তাঁর সৃষ্টিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারলেই দেশ ও জাতি সাংস্কৃতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হবে।