
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) আবারও তিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে রদবদল করা হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় এ পরিবর্তন আনা হলো। বুধবার (১৭ জুন) রাতে পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ রদবদল করা হয়।
সিএমপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কৌশলগত কারণে আদেশটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইয়াবা কাণ্ডে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিনকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর স্থলে আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূরকে কোতোয়ালী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই কোতোয়ালী থানার ওসি পদে এই পরিবর্তন এলো।
অন্যদিকে, মাত্র তিন দিন আগে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে পুনরায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মো. ইখতিয়ার উদ্দিনকে কর্ণফুলী থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
একই আদেশে সদরঘাট থানার ওসি কাজী মো. মাহফুজ হাসান সিদ্দিকীকেও পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর স্থলে সিএমপির এস্টেট শাখার পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার (১৫ জুন) সিএমপির পাঁচ থানার ওসি পদে ব্যাপক রদবদল আনা হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনূর আলমকে ডবলমুরিং থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সিটিটিসির পরিদর্শক কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।
সোমবারের আদেশে ডবলমুরিং থানার ওসি জামাল উদ্দিন খানকে সিটিটিসিতে এবং খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে একই ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়। অপরদিকে, সিটিটিসির পরিদর্শক মোজাম্মেল হককে খুলশী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদকে ডিবি দক্ষিণে বদলি করা হয়। চাঁন্দগাঁও থানার ওসি নুর হোসেন মামুনকে চকবাজার থানায় এবং ডিবি দক্ষিণের পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে চাঁন্দগাঁও থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সিএমপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, জনসেবা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতেই ধারাবাহিকভাবে এসব পদায়ন ও রদবদল করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক আলোচিত ঘটনা, তদন্ত কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে ওসিদের এই রদবদল বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতেই কমিশনারের এই পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার এবং জনগণের পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।