
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় নকশাবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা ‘উৎসব সুপার মার্কেট’ নামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুচ সালামের ভাগিনা ও আত্মীয় পরিচয়ে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ছাদেক আলী ন্যায়বিচার ও বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ছাদেক আলী দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সুপার শপ ও মার্কেটের মডেল প্ল্যান এবং অপারেশনাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবসা করে আসছিলেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় তিনি বিবাদী চক্রটিকে ‘উৎসব সুপার মার্কেট’ প্রতিষ্ঠার একটি লাভজনক পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা দেন। বিবাদী পক্ষ তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তাঁকে অপারেশনাল দায়িত্বের পাশাপাশি অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানায়।
সরল বিশ্বাসে ছাদেক আলী ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, যার বিপরীতে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার চুক্তি করা হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব সুপার মার্কেটটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের পর বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও বিবাদীরা ছাদেক আলীকে মূল চুক্তিপত্রের কোনো কাগজপত্র দেননি। বিনিয়োগের পর থেকেই চুক্তিপত্রের কপি দেব-দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে চক্রটি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের বার্ষিক অডিট বা আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী দাখিল না করেই মনগড়াভাবে তাঁকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করতে থাকে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে ছাদেক আলী মূল চুক্তিপত্র এবং লভ্যাংশের সঠিক হিসাব দাবি করলে বিবাদীদের আচরণ বদলে যায়। তারা লভ্যাংশ কমিয়ে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। ছাদেক আলী এতে অস্বীকৃতি জানালে, বিবাদীরা তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুচ সালামের ভাগিনা ও আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানির হুমকি দেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিডিএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুচ সালামের ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুলশীর মতো একটি সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো প্রকার নকশা অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়েছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটের কারণে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি।
ভীতি ও অপেশাদারিত্বের কারণে বিগত দেড় বছর ধরে ছাদেক আলী ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিবাদী পক্ষের অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. জহির একটি হিসাবের স্টেটমেন্ট পাঠায়। সেখানে বিগত ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা লভ্যাংশ ধরে ৪ মাসের বকেয়াসহ বিনিয়োগের ১২ লক্ষ টাকার বিপরীতে মনগড়া লাভ-ক্ষতি দেখিয়ে ছাদেক আলীর পাওনা মাত্র ১০,৯৮,২৪৮/- (দশ লক্ষ আটানব্বই হাজার দুইশত আটচল্লিশ) টাকা উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী এই হিসাবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও ব্যবসায়িক নীতিবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন।
বর্তমানে নিজের খাতিরের পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন মাধ্যমে ছাদেক আলীকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের ও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী চক্রটির ক্ষমতার উৎস দুর্বল হলেও এখনো তারা অর্থ ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে কোণঠাসা করে রেখেছে। বিবাদীদের এমন আইন অমান্যকারী ও সন্ত্রাসী আচরণের মুখে নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগকৃত মূলধন ও সঠিক লভ্যাংশ বুঝে পাওয়ার লক্ষ্যে ভুক্তভোগী ছাদেক আলী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে লিখিত অভিযোগ পেশ করেছেন। একই সাথে তিনি এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।