
রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আপিল বিভাগের রায়ে বাতিল হওয়ার পর তার অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট দারোগারহাট এলাকাসহ এ ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা চেইনসো (গাছ কাটার বৈদ্যুতিক করাত) দিয়ে মহাসড়কের পাশের গাছ কেটে গাছের গুঁড়ি সড়কের ওপর ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। কয়েকটি পুরো গাছও সড়কে ফেলে রাখা হয়। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একপাশ দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অবরোধের কারণে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এতে নারী, শিশু, বয়স্কসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ডিউটি অফিসার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানান, মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ঋণ খেলাপির মামলায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন। আদালতের রায়ের ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না এবং তার নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশ করা যাবে না।
আদালতের রায়ের পর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিকীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। পরে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশে ফলাফল প্রকাশ স্থগিত ছিল। মঙ্গলবারের চূড়ান্ত রায়ের পর তার অনুসারীদের মহাসড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।