শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
যেসব আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী এসএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়লো নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি অন্তিম মুহূর্তে যে উপদেশ দিয়েছিলেন নুহ (আ.) একতরফা সবকিছু করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবো : জামায়াতের হুঁশিয়ারি এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেফতার ২ মাসুদ সাঈদীর আপিল নামঞ্জুর, বহাল থাকলো বিএনপি প্রার্থী আলমগীর র‌্যাবের গুমঘর পরিদর্শনের অনুমতি পেলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অধ্যাদেশ জারি : হাওর-জলাভূমি দখল ও অবৈধ মাছ শিকারে জরিমানা ১০ লাখ  কাতারের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
নোটিশ:

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

সুন্দরবনে বনজীবীদের জীবন কাটে কাঁকড়া ধরে

এমন ডি আব্দুর রশিদ নান্টু
Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

এম ডি আব্দুর রশিদ নান্টু

৯ বছর ধরে এই বনে কাঁকড়া মেরি বৌ, বাচ্চা নিয়ে বেঁচি আছি। পারিনি কোন ভারি কাজ করতি প্রতিবন্ধী বলে মানুষেরা কাজে নিতে চায় না। বিএলসিডা আছে বলে বনে কাঁকড়া মারতি পারি। তাই দিয়ে চাল, ডাল, কিনে কোন রকম আছি। বনে কাঁকড়া মেরি তাই সেই কাকড়া আমাদের খোড়লকাটি বাজারে বিক্রি করি। মনে অনেক স্বপ্ন আছে কিন্তু টাকার অভাবে পূরণ করতে পারিনি। বাড়ি থেকে বনে কাঁকড়া মারিতে যায় আবার বাড়ি আসি। নেই কোন জায়গা জমি, চাল কিনে খেতে হয়। বাড়ির পাশে সুন্দরবনটা আছে বলে বিএলসি পাশ কেটে বনে গিয়ে কাঁকড়া মারিতে পারি। তবে কাঁকড়া ভালোই পড়তেছে। যখন বন বন্ধ থাকে তখন খুব কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়। ৩ মাস পরে বন খুলে দিচ্ছে বনে গিয়ে কাঁকড়া মেরি আমারা অনেক স্বস্তি পায়ছি। আজকে ১২০০টাকা কাঁকড়া বিক্রি করতে করছি, মঙ্গলবার বিকেলে নৌকায় বসে এভাবেই কথাগুলো বলেছিলেন কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর তেঁতুল তলার চরের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান গাজী।

শুধু কামরুজ্জামান নয় তাদের মতো হাজারো মানুষ সুন্দরবনের মাছ কাঁকড়া মেরে জীবন যাপন করে।

এসময় কাকড়া ধরতে আসা মহেশ্বরীপুর গ্রামের আবু হানিফ, গোলাম রসুল, আরশাদ মোড়ল সহ একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের কাকড়া ধরে জীবীকা নির্বাহ করেন তারা। টানা ৩ মাস বন্ধ থাকার পরে ১সেপ্টেম্বর থেকে পাশ নিয়ে গহীন সুন্দরবনে কাকড়া ধরছেন। এতে স্বস্তি দেখা দিছে তাদের মাঝে। তবে দিনে কাঁকড়া বিক্রি করে ১হাজারের বেশি টাকা ইনকাম হচ্ছে তাদের। তারা আরও বলেন, যখন সুন্দরবন বন্ধ থাকে সেসময় অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে। অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে/সুদে নিয়ে সংসার চালাতে হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার কাশিয়াবাদ, কোবাদক, বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন থেকে পাশ পারমিট নিয়ে গহীন সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে বন জীবিরা। তাদের নিরাপত্তার জন্য বন বিভাগ নিয়মিত টহল জোরদার রেখেছে।

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা নির্মল কুমার মন্ডল বলেন, জুন, জুলাই, আগস্ট ৩মাস নিষেধাজ্ঞার পর থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক মাছ, কাঁকড়া ধরার জন্য পাশ পারমিট স্টেশন থেকে নিয়ে গহীন সুন্দরবন প্রবেশ করেছেন বনজীবীরা তারা যেন ছোট প্রকৃতির মাছ ধরতে না পারে সেদিকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বন বিভাগের নিয়মিত টহল চলমান আছে।