সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
১২২ বারের মতো পেছালো সাগর-রুনির হত্যা মামলার প্রতিবেদন তারেক রহমান ফিরতে চাইলে একদিনেই ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব :পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খুলনায় আদালত চত্বরে দু’জনকে গুলি করে হত্যা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে অবরোধ ভারতের অনুমতি না মেলায় বুড়িমারীতে আটকা ভুটানের পণ্য খাতুনগঞ্জে কমছে চিনির দাম  খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একই রকম, বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অনিশ্চয়তা এলো অ্যাপল-অ্যান্ড্রয়েডে ফাইল শেয়ারের সুবিধা এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগে ইসমাইলের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের মর্যাদা ও সাংবাদিকতা পেশার শৃঙ্খলা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
নোটিশ:

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

পুনর্বহাল হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ::
Update Time : সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বহালের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

শুনানিতে আবেদনকারী সব পক্ষের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ ও সংবিধানে এটির পুনরুজ্জীবন চেয়েছে। পক্ষগুলো মনে করছে, রায়ের মাধ্যমে এখন এটি সংবিধানে বহাল হলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে কোনো প্রভাব পড়বে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চতুর্দশ নির্বাচন থেকে কার্যকর করার কথা বলছে পক্ষগুলো। ত্রয়োদশ তথা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই হবে।

গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

এর পর গত ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর, ২, ৪, ৫ ,৬ ও ১১ নভেম্বর শুনানি হয়।

আদালতে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, ইন্টারভেনার হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ এ রিট খারিজ করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে আপিল করে রিট আবেদনকারী পক্ষ। এ আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।

ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চারজন হলেন- তোফায়েল আহমেদ (প্রয়াত), এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৬ অক্টোবর একটি আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

পরে নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।