শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার কাটগড় ধুমপাড়া এলাকায় একটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পাশের আবাসিক ভবনের ওপর হেলে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের অনুমোদন ও নকশা ছাড়াই একটি পুরোনো মুরগির খামার ভেঙে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুইতলা ভবন ‘ওমর ফারুক ভিলা’। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সামনের অংশ পাশের ভবনের দিকে দুই থেকে তিন ফুট হেলে রয়েছে। এতে ওই ভবনে বসবাসকারীসহ আশপাশের কয়েকটি পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পতেঙ্গার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ধুমপাড়া এলাকায় ‘ওমর ফারুক ভিলা’ নির্মাণের আগে সেখানে একটি মুরগির খামার ছিল। পরবর্তীতে ওই খামার ভেঙে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিডিএর অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সিডিএতে দেওয়া অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা জাহানারা বেগম উল্লেখ করেন, ১২৮৭/৭ নম্বর দাগে বৈধভাবে জমি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী মো. রসিদ পুরোনো মুরগির খামার ভেঙে ‘ওমর ফারুক ভিলা’ নামে ভবন নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে সেটি মোজাহের নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবনটি বর্তমানে পাশের আবাসিক ভবনের দিকে হেলে পড়ায় জাহানারা বেগমের বাড়িটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা দিদার আলম, আমিরুল আমিন ও জাহানারা বেগম পৃথকভাবে সিডিএ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবনটির অবস্থা দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। যেকোনো সময় ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির নির্মাণ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সরেজমিনে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদকের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের ছবি ও ভিডিও ধারণের পর বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে কেন সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে—এমন প্রশ্ন করা হয়। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট ‘০১৮২৯৭৭৮৭৭৭’ নম্বর থেকে ‘ইকবাল’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে প্রতিবেদকের কাছে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারণ জানতে চান এবং একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটিকে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক।
স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা অবিলম্বে সিডিএর পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং হুমকির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, মালিকানা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।