শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
যেসব আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী এসএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়লো নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি অন্তিম মুহূর্তে যে উপদেশ দিয়েছিলেন নুহ (আ.) একতরফা সবকিছু করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবো : জামায়াতের হুঁশিয়ারি এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেফতার ২ মাসুদ সাঈদীর আপিল নামঞ্জুর, বহাল থাকলো বিএনপি প্রার্থী আলমগীর র‌্যাবের গুমঘর পরিদর্শনের অনুমতি পেলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অধ্যাদেশ জারি : হাওর-জলাভূমি দখল ও অবৈধ মাছ শিকারে জরিমানা ১০ লাখ  কাতারের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
নোটিশ:

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

রিমাল-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা শেষে খুলছে সুন্দরবন

মোঃ কুরবান আলী
Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার মোঃ কুরবান আলী

সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিসহ বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে জেলে-বনজীবীসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেটি শেষ হচ্ছে শনিবার (৩১ আগস্ট)। বন বিভাগের কাছ থেকে বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনে যেতে পারবেন জেলে-বনজীবীসহ পর্যটকরা।

সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানসের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই তিন মাস বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড) ম্যানগ্রোভ এই বনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে বন বিভাগ।

সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলা উপজেলার চিলার জয়মনি গ্রামের জেলে লিয়াকত আকন, দিলিপ বর্মন, সেলিম আকন ও আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৩০-৪০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় সুন্দরবনে মাছসহ বনজ সম্পদ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। সুন্দরবনে এই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের অনেক কষ্ট করে পরিবারসহ জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। খুশির খবর হচ্ছে রবিবার থেকে আবারও আমরা পাস-পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে মাছ আহরণ করতে যাবো। আমরা সুন্দরবন থেকে মাছ আহরণ করে বেঁচে থাকতে পারবো।’

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, ‘জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস হচ্ছে মৎস্য প্রজননের জন্য উপযুক্ত মৌসুম। এই সময় সাধারণত সকল মাছ ডিম ছাড়ে। তাই ২০১৯ সাল থেকে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানসের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়াও এই সময়টিতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীদেরও প্রজনন মৌসুম। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি ঘুরে দাঁড়াতে জেলে বনজীবীসহ দেশ-বিদেশের সকল পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানসহ (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইড) ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত সব খালে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। সারা বছর ২৫ ফুট প্রশস্তের ঊর্ধ্বের নদী-খালে উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার জেলে-বনজীবীরা বন বিভাগের কাছ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। এই তিন মাস ছাড়া সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা (ইকো ট্যুরিস্ট) সুন্দরবন ভ্রমণ করে থাকেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ ১ সেপ্টেম্বর থেকে বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে জেলে-বনজীবীসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আবারও সুন্দরবনে যেতে পারবেন।