শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
একতরফা সবকিছু করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবো : জামায়াতের হুঁশিয়ারি এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেফতার ২ মাসুদ সাঈদীর আপিল নামঞ্জুর, বহাল থাকলো বিএনপি প্রার্থী আলমগীর র‌্যাবের গুমঘর পরিদর্শনের অনুমতি পেলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অধ্যাদেশ জারি : হাওর-জলাভূমি দখল ও অবৈধ মাছ শিকারে জরিমানা ১০ লাখ  কাতারের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিন আগেও না পরেও না: প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বকাপ ট্রফি এখন বাংলাদেশে ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
নোটিশ:

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

মাদুরোর কাছেই ছিলেন ‘মীর জাফর’, সিআইএকে দিচ্ছিলেন সব তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুর্গের মতো সুরক্ষিত বাসভবন থেকে তাকে যেভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বন্দি করা হয়, তাতে অবাক হয়েছেন অনেকেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর এই অভিযান এত সহজ হয়ে যায় মূলত একজন বিশ্বাসঘাতকের কারণে।

 

মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি প্রতিনিয়ত ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্টের তথ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র কাছে পাঠাচ্ছিলেন। ফলে অভিযানের সময় মাদুরোর অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

দীর্ঘ প্রস্তুতি

‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানে অংশ নেয় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, সিআইএ ও এফবিআই। অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল বহু মাস ধরে এবং এর অংশ হিসেবে বারবার মহড়া দেওয়া হয়।

 

সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের হুবহু একটি নকল কাঠামো তৈরি করে সেখানে অনুশীলন চালায়। কীভাবে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী ওই ভবনে প্রবেশ করা হবে, তার প্রতিটি ধাপ ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

 

সিআইএর একটি ছোট দল গত আগস্ট থেকেই ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। তারা মাদুরোর দৈনন্দিন চলাফেরা, সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।

 

 

মাদুরোর ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি সিআইএর জন্য কাজ করছিলেন এবং অভিযান চলাকালে তার অবস্থান নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন।

 

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর চারদিন আগে অভিযানের অনুমোদন দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভালো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

 

ঝড়ের বেগে অভিযান

শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এই অভিযানে ২০টি ঘাঁটি থেকে ১৫০টির বেশি আকাশযান অংশ নেয়, যার মধ্যে এফ-৩৫, এফ-২২ এবং বি-১ বোমারু বিমান ছিল।

 

 

হামলার আড়ালে ভারী অস্ত্রসহ মার্কিন স্পেশাল ফোর্স কারাকাসে প্রবেশ করে। রাত ১টার দিকে মার্কিন সেনারা মাদুরোর আবাসিক কমপাউন্ডে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

শেষ পর্যন্ত সেনা ও এফবিআই সদস্যরা ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ভবনটিতে ঢুকে পড়েন।

 

 

মার্কিন সেনারা ভবনের ভেতরে ঢোকার পর মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন। ট্রাম্প জানান, মাদুরো একটি সেফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ করতে পারেননি। অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কেউ নিহত হননি।

 

ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ত্যাগ করার সময় মার্কিন বাহিনী একাধিক আত্মরক্ষামূলক সংঘর্ষে জড়ায়। ভোর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রের ওপর পৌঁছায়। মাদুরো ও তার স্ত্রী তখন সেগুলোর ভেতরেই ছিলেন।

 

প্রায় সাত ঘণ্টা পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরেকটি পোস্ট দেন। সেখানে চোখ বাঁধা, হাতকড়া পরা অবস্থায় ধূসর ট্রাউজার পরিহিত মাদুরোর একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইউএসএস আইও জিমা জাহাজে নিকোলাস মাদুরো।’

 

সূত্র: রয়টার্স