শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলটির জেলা আমির মো. রুহুল আমিনকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
এ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান ও জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন গত মঙ্গলবার এই নোটিশ জারি করেন। নোটিশে প্রার্থীকে আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর একটি দলীয় নির্বাচনি কর্মশালায় বক্তব্য দেন মো. রুহুল আমিন। ওই বক্তব্যকে উসকানিমূলক ও নির্বাচনি আচরণবিধি পরিপন্থি দাবি করে ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এম এ সবুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিষয়টি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কর্মশালার বক্তব্যে মো. রুহুল আমিন ভোটের আগে ‘বাঁশে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে ব্যবহারে’র নির্দেশনা দিয়েছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধিমালার পরিপন্থি। এ সংক্রান্ত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে একটি পেনড্রাইভে ভিডিও সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এ ঘটনায় কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে শুক্রবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যের মূল কথা ছিল-আমরা ভোট চুরি করব না, কাউকেও ভোট চুরি করতে দেব না। দিনের ভোট রাতে নেওয়ার সংস্কৃতি আমরা মানি না। যারা ভোট চুরি করতে আসবে, তাদের প্রতিহত করা হবে। প্রতিহত করার কথা বলতে গিয়ে বাঁশের লাঠির প্রসঙ্গ এসেছে। এটি কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়, কিংবা কর্মীদের সহিংসতায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যেও নয়। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করার একটি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়নি।