শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানবসেবার প্রতীক মহানগরের অতি সুপরিচিত মুখ সাবেক ছাত্রদল নেতা রুবেল বড়ুয়া সমাজসেবা ও রাজনীতিতে ভালোভাবেই সক্রিয় মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাজু রাজনীতির মাঠে তার কর্মকান্ড নজর করেছে সিনিয়র নেতাদের নতুন পরিচালনা কমিটি পেল মোহরা শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগীণ অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) পদে পদোন্নতি শহীদ ওমরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ডা: মো: আবু নাছের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানকে প্যাটারসন সিটির সম্মাননা খোদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর সুপারিশপত্রকেও পাশ কাটিয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চট্টগ্রামের ট্রাস্টি পদ ভাগিয়েছেন ঢাকায় বসবাসরত তিন ব্যক্তি মোহাম্মদ নগর এইচ কে সি উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জিয়াউর রহমান দীর্ঘ এক যুগ পর শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
নোটিশ:

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

চট্টগ্রাম-৮ : ‘দুর্গে’ ফুরফুরে বিএনপি, শক্তি বেড়েছে জামায়াতেরও

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
Update Time : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

 

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁওয়ের ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মাঠপর্যায়ের অবস্থান ও কৌশল এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কিছু দলীয় কোন্দল থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় আসনটিতে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সরব জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসেরও মাঠ গোছাচ্ছেন জোরেশোরে।

 

চট্টগ্রাম-৮ আসনকে বরবারই ধরা হয় বিএনপির দুর্গ। তবে অন্তর্কোন্দল ও অসন্তোষ রয়েছে আসনটি ঘিরে। প্রার্থী ঘোষণার পর যা আর প্রকট আকার ধারণ করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে সাবেক মন্ত্রী এম মোর্শেদ খান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও নগর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ—এ তিনজনের গ্রুপিংয়ে ঘুরপাক খাচ্ছেন বিএনপির ভোটাররা। এই বিভাজন চলতে থাকলে ভোটের মাঠে ধানের শীষের প্রার্থীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

 

 

চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসেন জানান, বিএনপি এখনো এই আসনে বড় রাজনৈতিক শক্তি। গ্রুপিংয়ের রাজনীতি বাদ দিয়ে এক হতে পারলে বিএনপিই এগিয়ে থাকবে। তবে জামায়াতও বেশ ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।

 

ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করি। জনকল্যাণমুখী কাজ করেছি। বিভিন্ন সময়ে এলাকার গরিব-অসহায়দের পাশে থেকেছি। জনগণের মাঝে ধানের শীষের গণজোয়ার দেখতে পাচ্ছি। গণসংযোগে গিয়ে গ্রামের মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

 

 

আসনটিতে গত দেড় বছরে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে জামায়াত। বলা হচ্ছে, বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে বিলম্ব জামায়াতকে বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছে। এছাড়া চিকিৎসক হিসেবে ডা. নাসেরের সুনামও রয়েছে।

 

জানা যায়, পাঁচলাইশ-চান্দগাঁও-বোয়ালখালীতে জামায়াতেরও ভোটব্যাংক আছে। দলটির নেটওয়ার্ক মূলত মসজিদ ও মাদরাসাভিত্তিক এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে জামায়াত এখানে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম করে আসছে।

 

জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাসের বলেন, আমি সবখানে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে কাজ করছি। বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে প্রায়োরিটি বেসিসে কাজ করছি। নির্বাচিত হই বা না হই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।

 

আসনটিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সম্মিলিত সুন্নি জোটের প্রার্থী মাওলানা হাসান আজহারী। ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচন করবেন তিনি। এই আসনে তরিকতপন্থি সুন্নি জোটেরও ভোটব্যাংক আছে বলে জানা যায়। আজহারী নির্বাচন না করলে তরিকতপন্থিদের ভোটের অধিকাংশই এরশাদ উল্লাহর পক্ষে যাওয়ার আভাস ছিল বলেও আলোচনা রয়েছে।

 

জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটের খেলায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে চোখ রাখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ভোটের মাঠে দলটির তেমন অবস্থান না থাকলেও সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবায়রুল হাসান আরিফকে মাঠে তৎপর হতে দেখা গেছে। দলীয় অবস্থান ভালো না থাকলেও জামায়াত জোট থেকে শেষ পর্যন্ত জোবায়রুল আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে।

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইশতিয়াক জানান, শুনেছি আসনটি ছেড়ে দিতে এনসিপির পক্ষ থেকে জামায়াতের ওপর চাপ রয়েছে। জামায়াত আসনটি ছেড়ে দিলে বিএনপির প্রার্থীর সামনে চ্যালেঞ্জ অনেকটাই কেটে যেতে পারে।