শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
যেসব আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী এসএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়লো নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি অন্তিম মুহূর্তে যে উপদেশ দিয়েছিলেন নুহ (আ.) একতরফা সবকিছু করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবো : জামায়াতের হুঁশিয়ারি এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয়: ইসির কর্মচারীসহ গ্রেফতার ২ মাসুদ সাঈদীর আপিল নামঞ্জুর, বহাল থাকলো বিএনপি প্রার্থী আলমগীর র‌্যাবের গুমঘর পরিদর্শনের অনুমতি পেলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অধ্যাদেশ জারি : হাওর-জলাভূমি দখল ও অবৈধ মাছ শিকারে জরিমানা ১০ লাখ  কাতারের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য
নোটিশ:

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

আসল পুলিশের হাতে নকল পুলিশ গ্রেফতার

Reporter Name
Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: দশ বছর আগে পটুয়াখালী থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে  ভ্যানগাড়িতে করে বিভিন্ন পন্য ফেরী করে বিক্রি করতো। পাশাপাশি রাজ মিস্ত্রির কাজও করতো। পটুয়াখালী জেলার সন্দুখালী থানার হাবিবুর রহমানের ছেলে সাইদুর রহমান (৩৫)।

কিন্তু এসবকিছুর আড়ালে সাইদুর আরো একটি কাজে জড়িত ছিলো। তার সেই কাজ করার জন্য রাতের অন্ধকারকে বেছে নিতো সে। নিজেকে পুলিশের এএসআই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে মেয়েদেরকে ব্লাকমেইলিং করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়াই ছিলো তার আসল পেশা।

এধরনের প্রতারনার জন্য সাইদুর নিজের আসল নাম গোপন রেখে রফিকুল ইসলাম নামে (বিপি ৯১২১৬০৫৬৮০) পুলিশের ভিজিটিং কার্ডও বানিয়েছিলো। এই কার্ড দেখিয়ে সে বিভিন্ন স্থানে প্রতারনা করে আসছিলো।

সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা এলাকার প্রবাসির স্ত্রী মোসাঃ সাহারা বেগমের কাছ থেকে জমি রেজিষ্ট্রি করিয়ে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নেয় ১০ লাখ টাকা। সেই টাকা নেওয়ার পর পুনরায় আরো টাকা দাবী করায় বিষয়টি তারা আইনশৃংখলা বাহিনীকে অবহিত করে।

পরে তাদের মাধ্যমে জানতে পারে সাইদুর রহমান এবং ওই বিপি নাম্বারের কোন এএসআই নেই। পরে বুধবার রাতে সাইদুরকে টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে আসতে বলে গৃহবধু সাহারা।

এসময় নারায়নগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির তাকে হাতে নাতে আটক করে। পরে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে। এ বিষয়ে ভুক্তভুগি গৃহবধু সাহারা বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাস পূর্র্বে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পুলিশের এএসআই রফিকুল ইসলাম পরিচয় দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী সাহারার বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ এসপি অফিসের একটি অভিযোগ নিয়ে তার বাসায় হাজির হয়।

সেই সূত্রে সাহারার বাড়িতে রফিক ওরফে সাইদুর কয়েকবার আসা যাওয়া করে। একসময় সাইদুর সাহারার জমি দ্রুত রেজিষ্ট্রি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবী করে। এরই প্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসের ২০ তারিখে নগদ ৩ লাখ টাকা সাইদুরকে দেয় সাহারা।

এর নয়দিন পর জুলাই মাসের ২৯ তারিখে আরো ২ লাখ টাকা প্রদান করে সাইদুরকে। এর পরে আরো কয়েকবার সাহারার কাছ থেকে আরো ৫ লাখ টাকা আদায় করে সাইদুর।

এমনি করে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার পরেও প্রতারক সাইদুর সাহারার কাছে আরো ২ লাখ টাকা দাবী করে। ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরে আবার অতিরিক্ত টাকা চাওয়ায় তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় সাহারা। এতে করে সাইদুর তাকে নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। পরে বিষয়টি সাহারা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে অবহিত করে।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সাইদুরের বিপি নাম্বার যাচাই করে জানতে পারে এ নাম্বারে এবং নামে কোন পুলিশের কর্মকর্তা নেই। নাম এবং বিপি নাম্বার দুটোই ভুয়া। বিষয়টি প্রতারক সাইদুরকে বুঝতে না দিয়ে টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে আসতে বলে সাহারার বাসায়। টাকা নেওয়ার জন্য বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সাইদুর সাহারার বাসায় আসে।

এসময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে।

এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় ধৃত ভুয়া পুলিশ রফিকুল ইসলাম ওরফে সাইদুরের নামে চলতি বছরের জুলাই মাসের ৭ তারিখে শান্তা নামে এক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছে। সেই থেকে পুলিশ তাকে খুঁজছে।

এদিকে সাহারার দায়েরকৃত প্রতারণার মামলা এবং শান্তার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক দীলিপ কুমার বিশ্বাস।

তিনি জানান রফিকুল ইসলাম ওরফে সাইদুর একজন ভূয়া পুলিশ। সে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অপকর্ম করে বেড়াতো। এর আগে তার নামে গত জুলাই মাসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছিলো। আমরা তাকে খুঁজতে ছিলাম। সে আসলে খুব ধূর্ত প্রকৃতির। তাই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।