মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কাছাড়ের উধারবন্দে এলাকায় ৪ শ্রমিক নিহত  আসাম মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সৎসঙ্গ পরিবারের ২ কোটি টাকা অনুদান আসামে মাদকাসক্ত জামাতার হাতে শ্বশুর খুন পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার  বোয়ালখালীর শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা শিমলা সেনগুপ্ত বাগীশিপের উদ্যোগে গীতা স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও ইউনিফর্ম বিতরণ ওসি মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে এশিয়ান গ্রুপের পদে পদে জালিয়াতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৫ জন  সবাইকে নিরাপদ জায়গায় অবস্থান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন
নোটিশ:

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

অন্তিম মুহূর্তে যে উপদেশ দিয়েছিলেন নুহ (আ.)

মুফতি ইফতেখারুল হক হাসনাইন, ইসলাম ডেস্ক ::
Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

 

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একদিন আমরা রাসুলুল্লাহর (সা.) এর কাছে বসে ছিলাম। রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহর নবী নুহ (আ.) যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তিনি তার ছেলেকে বললেন, আমি আমি তোমাকে দুটি নির্দেশ দিচ্ছি এবং দুটি কাজ করতে নিষেধ করছি।

 

আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি:

 

১. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-কে আঁকড়ে ধরো। কারণ সাত আসমান ও সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অন্য পাল্লায় রাখা হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সব কিছুর চেয়ে ভারী হবে। আর যদি সাত আসমান ও সাত জমিন একটি বন্ধ আংটির মতো হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তা ভেঙে ফেলবে।

 

২. ‘সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’-কে আঁকড়ে ধরো। এই জিকির সমস্ত সৃষ্টিজীবের নামাজ এবং এর মাধ্যমে সৃষ্টিজীব রিজিক পায়।

 

আর আমি তোমাকে নিষেধ করছি

 

১. শিরক থেকে।

 

২. অহংকার থেকে।

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, শিরক কী তা তো আমরা জানি। কিন্তু অহংকার কী? এটা কি এই যে আমাদের কারো সুন্দর জুতা থাকবে, তাতে সুন্দর ফিতা থাকবে?

 

রাসুল (সা.) বললেন, না।

 

আমি বললাম, এটা কি এই যে আমাদের কারো সুন্দর পোশাক থাকবে?

 

রাসুল (সা.) বললেন, না।

 

আমি বললাম, এটা কি এই যে আমাদের কারো আরোহণ করার মত উট বা ঘোড়া থাকবে?

 

তিনি বললেন, না।

 

এটা কি এই যে আমাদের অনুসারী থাকবে যারা আমাদের কথা শোনার জন্য আসবে?

 

তিনি বললেন, না।

 

কেউ বললো, তাহলে অহংকার কী হে আল্লাহর রাসুল!

 

রাসুল (সা.) বললেন, অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা। (মাজমাউয-যাওয়ায়েদ)

 

হজরত নুহ (আ.) মানবজাতির কাছে প্রেরিত আল্লাহ তাআলার একজন সম্মানিত নবী ও রাসুল। আল্লাহ তাআলা তাকে এমন এক জাতির কাছে পাঠিয়েছিলেন যারা শিরকসহ বিভিন্ন পাপ ও অন্যায় কাজে লিপ্ত ছিল। আল্লাহ তাআলার নির্দেশে তিনি তাদেরকে শিরকসহ সব পাপাচার থেকে বিরত থাকার এবং আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত দেন। তাদের হেদায়াতের জন্য তিনি দীর্ঘকাল ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু তার জাতির বেশিরভাগ মানুষ ইমান আনেনি।

 

এক পর্যায়ে তিনি নিজের জাতির বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি একটি নৌকা তৈরি করেন এবং এক মহাপ্লাবন ঘটে। ওই মহাপ্লাবনের পরে পৃথিবীতে শুধু হজরত নুহ (আ.) ও তার নৌকার আরোহী ইমানদার কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন। বাকি সবাইকে আল্লাহ তাআলা ধ্বংস করে দেন।

 

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত নুহের (আ.) কথা বলেছেন, তার প্রশংসা করেছেন। তার দাওয়াত, প্রচেষ্টা ও তার জাতির অবাধ্যতা, আল্লাহর শাস্তিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ এসেছে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে।